চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হওয়া মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অডিওতে এক ব্যবসায়ীর কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং টাকা না দিলে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়ার কথা শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রায় ৪৩ সেকেন্ডের ওই অডিওতে একজন ব্যক্তিকে ব্যবসায়ীকে উদ্দেশ করে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। অডিওতে প্রাণনাশের আশঙ্কা তৈরি হয় এমন বক্তব্যও রয়েছে।
জানা গেছে, নগরের এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে প্রায় দুই মাস আগে চাঁদা চেয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ভয়ে তিনি ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে ওই ব্যবসায়ী এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলতে রাজি হননি।
অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পর চট্টগ্রামের ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজীব শাহরিয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অনেক ইন্টারনেট ব্যবসায়ী নিরাপত্তার কারণে চাঁদাবাজির বিষয় প্রকাশ্যে আনতে চাইতেন না। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের এখন যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হুমকির ঘটনা পুলিশকে জানানোর জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নগরের কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, চাঁদাবাজি কিংবা হুমকির শিকার কেউ পুলিশকে জানালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইমনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে একটি হত্যা ও অস্ত্র মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ইমন মাসে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের তথ্য দিয়েছেন। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক তথ্য সংগ্রহ করে পরে ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও বলছে, চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বাড়িতে হামলার হুমকি দেওয়া হতো। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিভিন্ন অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ হবে তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়।
ইতি/
