, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 25° সে. | 💧 আদ্রতা 96%

চট্টগ্রামে উন্নয়ন-অগ্রগতির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে পারে—এমন তৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান তৈরির জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। তবে বিনিয়োগকারীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, পণ্য পরিবহন ও কাঁচামাল সরবরাহে যাতে বাধা না থাকে, সে জন্য দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। তাই এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে।

শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও গুরুত্বারোপ

শুধু অর্থনীতি নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখার ক্ষেত্রেও স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের মতো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ দরকার।

এ সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করার মতো কর্মকাণ্ডের ব্যাপারেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই ক্ষতির মুখে পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে, নাকি সংঘাত ও বিভেদে জড়িয়ে পড়বে।

৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং এর প্রাথমিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিবারে নারীর অর্থনৈতিক ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মায়েদের আরও সক্ষম করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মিরসরাই-মাতারবাড়ি এলাকায় শিল্পায়নের পরিকল্পনা

সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

মিরসরাই থেকে মাতারবাড়ি পর্যন্ত শিল্পকারখানা স্থাপন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এর অংশ হিসেবে রোববার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে হেলিকপ্টারে সেখানে পৌঁছান তিনি।

বাঁশখালীতে ১০০ পরিবার পেল নতুন ঘর

প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে বাঁশখালীতে ১০০টি অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ এবং একটি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ঘর নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও শিশুকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক কর্মসূচি

চট্টগ্রাম সফরে প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারতের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন তিনি।

দিনের কর্মসূচি শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হজরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত