, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 25° সে. | 💧 আদ্রতা 96%

বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে ১০১ সদস্যের নাগরিক ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের নাগরিকদের অধিকার, আঞ্চলিক সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় এলাকায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবক হামিদ হোসাইন।

আয়োজকদের ভাষ্য, বৃহত্তর চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি, বন্দর, পর্যটন, মৎস্য, কৃষি, বনজ সম্পদ ও আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এ অঞ্চলের বহু নাগরিক সমস্যা এখনো সমন্বিতভাবে সমাধানের উদ্যোগ পায়নি। তাই পাঁচ জেলার মানুষের অভিন্ন স্বার্থ ও দাবিগুলো একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

সভায় বক্তারা চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা, যানজট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে কক্সবাজারের পর্যটন অবকাঠামো, পরিবেশ ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং পার্বত্য তিন জেলার যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

নাগরিক অধিকার ও আঞ্চলিক উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ

সভায় ফোরামের লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো আলাদাভাবে দেখার সুযোগ নেই। যোগাযোগ, পরিবেশ, পর্যটন, নদী, পাহাড়, সমুদ্র, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তার মতে, দল-মত, পেশা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নাগরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করা, তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণা, জনমত তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবিগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে ফোরাম কাজ করবে।

প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমেও নাগরিক দাবিগুলো সামনে আনার পরিকল্পনার কথা সভায় জানানো হয়।

১০১ সদস্যের কমিটি

সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট ‘বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রাথমিক নেতৃত্বে দায়িত্ব পেয়েছেন—

– চেয়ারম্যান: আবু সাঈদ

– কার্যকরী সভাপতি: মাহাফুজুর রহমান, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার

– সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান: ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ

– ভাইস চেয়ারম্যান: হামিদ হোসাইন

– মহাসচিব: সাংবাদিক ও লেখক মো. কামাল উদ্দিন

– সাংগঠনিক সম্পাদক: সৈয়দ মোহাম্মদ সেলিম

সভায় জানানো হয়, এটি প্রাথমিক নেতৃত্ব কাঠামো। পাঁচ জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে পরবর্তী সাধারণ সভায় আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অন্যান্য পদ চূড়ান্ত করা হবে।

পাঁচ জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ

ফোরামের কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়ন সম্ভাবনা চিহ্নিত করে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নাগরিক সমস্যার তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে দাবি উত্থাপন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে উদ্যোগ, কক্সবাজারের পর্যটন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ এবং পার্বত্য তিন জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন।

এ ছাড়া পাহাড়, নদী, বন ও সমুদ্রের পরিবেশ রক্ষা, আঞ্চলিক অর্থনীতি ও পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো, নাগরিক অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিও ফোরামের কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, পাঁচ জেলার নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের নাগরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

সভা থেকে নাগরিক উদ্যোগটিতে শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী, পেশাজীবী, তরুণ ও নারী প্রতিনিধিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত