, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

গোলাপজল-কেওড়াজল ব্যবহারে বিএফএসএর সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরিয়ানি, পোলাও, জর্দা ও মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবারে সুগন্ধ বাড়াতে ব্যবহৃত গোলাপজল ও কেওড়াজলের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। কর্তৃপক্ষ বলছে, বাজারে কিছু পণ্যের গায়ে ‘ফুড গ্রেড’ বা ‘খাদ্যোপযোগী’ লেখা থাকলেও সেগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিকের খাদ্যোপযোগিতা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিএফএসএর সাম্প্রতিক নজরদারিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খাদ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী রাসায়নিক ও ফ্লেভার ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু রাসায়নিক ‘সিনথেটিক গ্রেড’ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। আবার রাজধানীর ডেমরার একটি প্রতিষ্ঠানে কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত রাসায়নিক দিয়ে গোলাপজল, কেওড়াজল ও অন্যান্য ফ্লেভার তৈরির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য ও রাসায়নিক জব্দ করা হয়।

কর্তৃপক্ষের আপত্তি রয়েছে এসব পণ্যের লেবেলিং নিয়েও। বিএফএসএর ভাষ্য, খাদ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত সুগন্ধির ক্ষেত্রে তার ধরন ও প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী লেবেলে উল্লেখ থাকার কথা। কিন্তু বাজারে কিছু পণ্যে শুধু ‘বিশুদ্ধ পানি’, ‘গোলাপ ফ্লেভার’ বা ‘কেওড়া ফ্লেভার’ লেখা থাকায় ব্যবহৃত রাসায়নিকের ধরন ও খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পর্কে ভোক্তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না।

বিএফএসএ জানিয়েছে, কোনো পণ্যের গায়ে শুধু ‘ফুড গ্রেড’ লেখা থাকলেই সেটিকে খাদ্যে ব্যবহারের অনুমোদিত পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পণ্যের উপাদান, ব্যবহৃত সুগন্ধির ধরন এবং নির্ধারিত লেবেলিংয়ের শর্ত পূরণ করাও জরুরি।

তবে বাজারে থাকা সব গোলাপজল বা কেওড়াজল নিষিদ্ধ নয়। খাদ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত এবং সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ লেবেলযুক্ত পণ্য এ সতর্কতার আওতায় পড়বে না। মূলত অনুমোদনহীন, বিভ্রান্তিকর লেবেলযুক্ত কিংবা খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগিতা নিশ্চিত নয়—এমন পণ্য নিয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিএফএসএ হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার এবং খাবার প্রস্তুতের সঙ্গে জড়িতদেরও অনুমোদন ও লেবেল যাচাই ছাড়া এসব সুগন্ধি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে।

ভোক্তাদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের পরামর্শ, গোলাপজল বা কেওড়াজল কেনার আগে পণ্যটি খাদ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কি না, লেবেলে উপাদান ও সুগন্ধির ধরন উল্লেখ আছে কি না এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হয়েছে কি না—তা যাচাই করতে হবে।

খাদ্যে অননুমোদিত উপাদান ব্যবহার এবং বিধি অনুযায়ী লেবেল না থাকলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে বিএফএসএ।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত