, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 25° সে. | 💧 আদ্রতা 96%

আগস্টেই ভারত সফর? তারেক রহমানকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়েছে। চলতি আগস্টে দুই দিনের সফরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো সফরের তারিখ বা চূড়ান্ত সূচি নির্ধারিত হয়নি। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফর আয়োজনের আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে অগ্রগতির পাশাপাশি ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। পরে ত্রিবেদী দিল্লি গিয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাঁকে আগে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার জন্যও আমন্ত্রণ রয়েছে। সফর নিয়ে নতুন কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি দেশটির সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ফলে বিষয়টি এখনো ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি গণমাধ্যম-সংক্রান্ত কর্মসূচি ঘিরেও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ এর প্রতিবাদ জানালে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং বাংলাদেশের বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্যকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।

তবে একই সময়ে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক ও কার্যকর করার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভবিষ্যৎ উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে। তবে সফরের সময় ও কাঠামো নির্ধারণে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানের কতটা সমন্বয় হয়, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত