শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ক্যাম্পাসের সব পুকুরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব পুকুরে নামা, সাঁতার কাটা কিংবা কোনোভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ নির্দেশনা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে কেউ পুকুরে প্রবেশ করলে সেটিকে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরপর তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু
চুয়েট ক্যাম্পাসের পুকুরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
গত ২৮ জুলাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলসংলগ্ন পুকুরে পানিতে ডুবে যন্ত্রকৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
এরপর ১২ আগস্ট একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের চমক দত্ত এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শান্ত দেব। দুজনই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরপর এসব দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসের পুকুরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময়
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম।
অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শুরুতে সাম্প্রতিক পুকুর দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিভিন্ন সেবার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, পুকুরগুলোতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাময়িকভাবে হলেও এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
ইতি/
