, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

বাংলাদেশে সেল গড়তে চায় একিউআইএস, জাতিসংঘের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আল-কায়েদার আঞ্চলিক সংগঠন ‘আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট’ (একিউআইএস) ছোট পরিসরে সাংগঠনিক সেল তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তারের এই প্রবণতাকে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ‘অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম’ সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরে। ১০ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৯ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একিউআইএসের সাংগঠনিক কাঠামো বর্তমানে আরও বিকেন্দ্রীভূত হচ্ছে। বড় কোনো একক ঘাঁটি বা ইউনিটের পরিবর্তে ছোট ছোট সেল তৈরি করে বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম বিস্তারের কৌশল নিয়েছে সংগঠনটি। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে সাংগঠনিক ও অন্যান্য স্বার্থে ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন সেল গঠনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে এসেছে, নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রভাব বিস্তারের জন্য একিউআইএস বিভিন্ন এলাকায় আর্থিক ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর রাসায়নিক ও জৈব উপাদান ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা নিয়েও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে সদস্যদের রাসায়নিক বিষ ও জৈব উপাদান তৈরির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতে বিষাক্ত ‘রিসিন’ তৈরির অভিযোগে এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একিউআইএসের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থান করছেন। তাদের আফগান জাতীয় পরিচয়পত্র বা ‘তাজকিরা’ পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দল।

পাকিস্তানেও একিউআইএসের প্রভাব ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংগঠনটির যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখাওয়ার বান্নুতে একটি নিরাপত্তা স্থাপনায় আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা উত্তেজনা জঙ্গি সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তালেবান সরকার সন্ত্রাসী সংগঠনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করলেও টিটিপি ও একিউআইএসের মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশকে ঘিরে একিউআইএসের সম্ভাব্য সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টি তাই দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অংশ হিসেবেই দেখছে জাতিসংঘ।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত