, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

বাঁশখালীতে বন্যা ঠেকাতে ১,৩৬২ কোটি টাকার প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি, জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে বারবার বন্যার ঝুঁকিতে থাকা চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বড় ধরনের প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৬২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

পাউবোর চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ ইতোমধ্যে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে। অনুমোদনের জন্য এটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত করতে ৯০ কিলোমিটারের বেশি খাল পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৫টি স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ বা প্রতিস্থাপন, প্রায় ৭৭ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ বাঁধ সংস্কার এবং উপকূলীয় বাঁধের বিভিন্ন অংশের সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীতে বর্তমানে ৭০টি স্লুইসগেট ও রেগুলেটর রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি সচল, ১৩টি আংশিক সচল এবং ১১টি অকেজো। প্রকল্পের আওতায় অকেজো ১১টি গেট পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি আরও ১৪টি স্লুইসগেট প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৯৯ কোটি টাকা।

পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান পথ জলকদর খালও প্রকল্পের আওতায় আসছে। ঈশ্বরবাবুর হাট থেকে সরল সেতুর ভাটির অংশ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার জলকদর খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ছনুয়া, গোবিন্দসহ বিভিন্ন শাখা খালের আরও প্রায় ৭১ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করা হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, জলকদর খাল পুনঃখননে প্রায় ৯৯ কোটি টাকা এবং শাখা খালগুলোর কাজে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমাতে বাঁধ সংস্কারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাহারছড়া, কাথারিয়া, সরল, চাম্বল ও গণ্ডামারা ইউনিয়নে প্রায় ৭৬ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ বাঁধ মেরামতের প্রস্তাব রয়েছে। এ কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা।

এর বাইরে গণ্ডামারা, বাহারছড়া ও ছনুয়া এলাকায় প্রায় ৬ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধের ঢাল সুরক্ষা এবং পুকুরিয়া, সাধনপুর ও খানখানাবাদ এলাকায় প্রায় ৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। এ দুটি কাজে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৪৭৫ কোটি ও ১৬৩ কোটি টাকা।

পাউবো কর্মকর্তাদের মতে, গত জুলাইয়ের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পর পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছে। অনেক এলাকায় পানি দ্রুত নামতে না পারায় দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পুরোনো ও অকার্যকর স্লুইসগেট এবং খালের অপর্যাপ্ত ধারণক্ষমতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাউবোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খাল পুনঃখনন, আধুনিক স্লুইসগেট স্থাপন এবং বাঁধ সংস্কারের মাধ্যমে পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সঠিক নকশা, পরিবেশগত বিষয় এবং কাজের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, শুধু বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার নয়, একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন এবং জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও উপকূলীয় সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত