, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 82%

চট্টগ্রামে ফের সক্রিয় অপরাধী চক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নগরীর পাশাপাশি রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন অপরাধী চক্রের তৎপরতার তথ্য সামনে এসেছে। ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চাঁদার দাবির পাশাপাশি দাবি না মানলে হামলা ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে নগরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় একটি ভবনের ফটকে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার সাত দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে ১৮ আগস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ে নগরের এক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ও র‍্যাব।

চট্টগ্রামের অপরাধজগতের আলোচনায় এসেছে বিদেশে অবস্থানরত বলে পুলিশের দাবি করা সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর নাম। পুলিশের ভাষ্য ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে, তাঁর সঙ্গে যুক্ত একটি অপরাধী নেটওয়ার্ক চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা এবং আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে আলোচিত মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ‘ডেভিড ইমনকে’ ২৯ জুলাই যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে তাঁকে ধরতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অভিযানও চালানো হয়েছিল।

শুধু নগর নয়, রাউজানেও সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের তৎপরতার অভিযোগ সামনে এসেছে। জুনে রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক মাসুদ হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তদন্তকারীরা স্থানীয় একটি অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার বিষয়টি খতিয়ে দেখছিলেন।

চট্টগ্রামের অপরাধ পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো—অপরাধীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূরবর্তী স্থান থেকেও যোগাযোগ ও চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশি নম্বর বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছে হুমকি ও অর্থ দাবির একাধিক ঘটনা সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবশ্য বিভিন্ন ঘটনায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করছে। তবে একের পর এক চাঁদাবাজি, গুলি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকায় প্রশ্ন উঠছে—গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এসব অপরাধী নেটওয়ার্কের অর্থের উৎস, অস্ত্রের সরবরাহ এবং মাঠপর্যায়ের সহযোগীদের পুরো কাঠামো কতটা কার্যকরভাবে ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও বাণিজ্যিক নগর। ফলে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিস্তার শুধু নাগরিক নিরাপত্তার জন্য নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ। অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান, অস্ত্র উদ্ধার, মামলার দ্রুত তদন্ত এবং অপরাধের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করাকে এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত