, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 73%

ফরিদপুর জেলা নাজিরের বিরুদ্ধে মাদক সেবনসহ নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিকুল ইসলামকে ঘিরে মাদক সেবন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ডোপ টেস্টের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

সম্প্রতি নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, নাজির এ কে এম রফিকুল ইসলাম আদালতের পদমর্যাদা ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের জামিন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। অর্থের বিনিময়ে জামিনসংক্রান্ত কাজে সহযোগিতা এবং অবৈধ তদবিরেরও অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও সহিংসতার মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি, চিহ্নিত অপরাধী এবং মাদক কারবারিদের জামিনের ক্ষেত্রে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি পদ ব্যবহার করে নাজির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঢাকার ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশানসহ অভিজাত এলাকায় এবং ফরিদপুর শহরে ফ্ল্যাট ও জমিসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মৌজাতেও তাঁর ও স্বজনদের নামে-বেনামে সম্পত্তি থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিজের প্রভাব ব্যবহার করে ভাই, ছেলে, জামাতাসহ নিকটাত্মীয়দের বিচার বিভাগের বিভিন্ন পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, আদালতের নকল সরবরাহসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রে বিচারপ্রার্থী ও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করা হয়। অর্থ না দিলে নথি আটকে রাখা কিংবা দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, নাজিরের ডোপ টেস্ট এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের নাজির এ কে এম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষরা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। মাদক সেবন বা কোনো মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা নেই। অর্থের বিনিময়ে আসামিদের জামিনে সহযোগিতা কিংবা জামিনের কাগজ আটকে রাখার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

রফিকুল ইসলাম জানান, জেলা জজ (ভারপ্রাপ্ত) তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিলে তিনি এর জবাব দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে তিনি প্রতিপক্ষের সাজানো ও মিথ্যা বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ডোপ টেস্ট করাতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান। নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত