, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 65%

চমেক নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত হলো ইএমজি মেশিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্নায়ু ও মাংসপেশির বিভিন্ন জটিলতা নির্ণয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি (ইএমজি) মেশিন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে দান করা এই যন্ত্রের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউরোলজি বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেশিনটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন।

জানা গেছে, আলহাজ্ব মো. ওহিদুল আলমের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইএমজি মেশিনটি নিউরোলজি বিভাগে যুক্ত করা হয়েছে। যন্ত্রটির মাধ্যমে স্নায়ু ও মাংসপেশির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে বিভিন্ন রোগ শনাক্তে সহায়তা পাওয়া যাবে।

বিশেষ করে হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, স্নায়ুতে টান বা দুর্বলতা, সায়াটিকার মতো সমস্যায় পা অবশ হয়ে যাওয়া এবং মাংসপেশির দুর্বলতার কারণ নির্ণয়ে ইএমজি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. হাসানুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনিসুল হোসেন।

অনুষ্ঠানে ইএমজি যন্ত্রের দাতা আলহাজ্ব মো. ওহিদুল আলমের ছেলে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. মনিরুল আলম এবং ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এস. এম. আবু তৈয়বসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিউরোলজি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। বিভাগের বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় রোগীর চাপ কয়েক গুণ বেশি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে অনেক সময় রোগীদের মেঝে, বারান্দা ও করিডরেও অবস্থান করতে হয়। এরপরও চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে স্ট্রোক রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন হয়।

নতুন ইএমজি মেশিনটি রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান বিভাগীয় প্রধান। তাঁর ভাষ্য, চমেকের নিউরোলজি বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জন চিকিৎসক এমডি সম্পন্ন করেছেন। নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় চিকিৎসকদের ব্যবহারিক দক্ষতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে চট্টগ্রামে নিউরো-ইন্টারভেনশন সেবা চালুর উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। বড় ধরনের স্ট্রোকের চিকিৎসায় মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি ও ক্যারোটিড স্টেন্টিংয়ের মতো আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে এসব সেবার জন্য অনেক রোগীকে ঢাকায় যেতে হয়।

অধ্যাপক হাসানুজ্জামান বলেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় স্থানান্তরে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। ফলে চট্টগ্রামেই আধুনিক নিউরো-ইন্টারভেনশন সুবিধা চালু করা গেলে জরুরি রোগীদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত