, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

মার্কিন সেনামুক্ত হলো ইরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর শেষ সদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালের মার্কিন নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনের পর শুরু হওয়া দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান হলো।

ইরাকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার এক দিন আগেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর শেষ সদস্যরা ইরাক ত্যাগ করেছেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার শেষ করার বিষয়ে ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে দেশটির জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাগদাদের বক্তব্য, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি শেষ হওয়ার ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন ইরাকি বাহিনীর ওপরই থাকবে।

২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের মাধ্যমে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হয়। ২০০৭ সালের দিকে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি হয়েছিল। ২০১১ সালে মার্কিন সেনাদের বড় একটি অংশ প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরাকে সেনা মোতায়েন করে।

২০২৪ সালের সমঝোতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন গুটিয়ে নেওয়া হয়। গত বছর ইরাকের অধিকাংশ এলাকা থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হলেও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি এলাকায় কিছু সেনা অবস্থান করছিল। সর্বশেষ সেই উপস্থিতিও শেষ হয়েছে।

তবে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকে একই সঙ্গে স্বস্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একদিকে এটি দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে; অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কিছু বিশ্লেষক।

বিশেষ করে ইরানে ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব এবং ইসলামিক স্টেটের সম্ভাব্য পুনরুত্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। Reuters-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার ফলে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাকি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

Al Jazeera-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুধু সামরিক উপস্থিতির সমাপ্তি নয়; এর পর ইরাককে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের আকাশসীমার সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে।

ফলে মার্কিন বাহিনীর বিদায়ের পর ইরাকের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব কার্যকরভাবে ধরে রাখা। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত