চট্টগ্রামের স্বাধীনতা কমপ্লেক্স—একসময় যেখানে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা স্থাপনার প্রতিরূপ দেখতে ছুটে আসতেন দর্শনার্থীরা, সেই ‘মিনি বাংলাদেশ’ এখন অনেকটাই জনশূন্য।
প্রায় ১৬ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই বিনোদনকেন্দ্রে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর আদলে তৈরি করা হয়েছিল বিভিন্ন অবকাঠামো। পাশাপাশি ছিল শিশুদের বিনোদনের জন্য নানা রাইড ও আকর্ষণ।
কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। প্রবেশপথে তালা, ভেতরে নীরবতা। দীর্ঘদিনের অযত্নে বিভিন্ন স্থাপনার চারপাশে বেড়ে উঠেছে আগাছা। কোথাও জমেছে শেওলা, কোথাও পড়ে আছে ভাঙা কাচ ও ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রী।
কমপ্লেক্সের বিনোদন রাইডগুলোর অবস্থাও নাজুক। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অনেক রাইডে মরিচা ধরেছে। কিছু স্থাপনার দেয়াল ও কাচের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভাঙচুরের ঘটনায় কমপ্লেক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর আর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরেনি এটি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও নষ্ট হচ্ছে এখানকার বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জাম।
আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, জাতীয় সংসদ ভবন ও পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের আদলে তৈরি স্থাপনাগুলো এখন দর্শনার্থীদের ইতিহাস দেখানোর বদলে সাক্ষ্য দিচ্ছে দীর্ঘদিনের অবহেলার।
একসময় মানুষের কোলাহলে মুখর থাকা এই বিনোদনকেন্দ্র এখন যেন একটি প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে—ঐতিহ্যের এই প্রতিরূপগুলো কি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে, নাকি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে অযত্নের আড়ালে?
ইতি/
