, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 95%

রেয়াজউদ্দিন বাজারে জলাবদ্ধতা: ৮০০ দোকান-গুদামে পানি, ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র রেয়াজউদ্দিন বাজারে ভারি বৃষ্টির পানিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বাজারের প্রায় ৮০০ দোকান ও গুদামে পানি ঢুকে জুতা, পোশাক, কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক পণ্যসহ বিভিন্ন সামগ্রীর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন।

রোববার দিবাগত রাতের ভারি বৃষ্টির পর বাজারের বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পানি ঢুকে পড়ে বাহার লেইনের দুই পাশের মার্কেট, রফিক উদ্দিন সিদ্দিকী মার্কেট, গোলাম রসুল মার্কেট ও পৌর হকার্স মার্কেটের বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গুদামে। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায় বলে ব্যবসায়ীদের দাবি।

ব্যবসায়ীরা জানান, আকস্মিকভাবে পানি ঢুকে পড়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে পানিতে ভিজে বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়েছে। মঙ্গলবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানদার ও কর্মচারীরা কাদা ও ময়লা মিশ্রিত পানি সরানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য আলাদা করে রাখছেন। অনেক দোকানে ভেজা পোশাক, জুতা ও অন্যান্য পণ্য স্তূপ করে রাখা হয়েছে।

ব্যবসায়ী ইলিয়াস উদ্দিন বলেন, তাঁর দোকানের বিপুল পরিমাণ কসমেটিকস পানিতে নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে এমন ভয়াবহভাবে পানি ঢোকার ঘটনা তিনি আগে দেখেননি। অতীতে পানি ঢুকলেও পণ্য সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকত, এবার সেই সময়টুকুও পাওয়া যায়নি।

রেয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছালামত আলী বলেন, সমিতির আওতায় ছোট-বড় প্রায় ৩০০টি মার্কেট রয়েছে এবং এসব মার্কেটে ১০ হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৮০০ দোকান ও গুদামে পানি প্রবেশ করেছে। বিশেষ করে জুতা, পোশাক ও কসমেটিকসের দোকানে ক্ষতির পরিমাণ বেশি।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার কম হবে না। তবে এই হিসাব ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রাথমিক দাবি; সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আলাদাভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারের আশপাশের নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়া এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা পর্যাপ্ত কার্যকর না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারেনি। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পানি ঢুকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

তাঁরা দ্রুত বাজারের নালা-নর্দমা পরিষ্কার, পানি প্রবাহের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নগরীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা নতুন নয়; খাল-নালা ও ড্রেনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণকে জলাবদ্ধতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে আগেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ এবং জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দাবি উঠেছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত