বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের উপসর্গ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে রুমা সদর ইউনিয়নের দুর্গম লেতং খুমী পাড়ায় সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয় বলে জানা গেছে।
রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য বলছে, গত ৬ জুন থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় ১০০ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, ৬৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং ১৩ শিশু তখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত টিকাদান থেকে অনেক শিশু বাদ পড়া, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে সমস্যা এবং চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। লেতং পাড়ায় পৌঁছাতেও বগালেকের কাছাকাছি এলাকা থেকে দীর্ঘ পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়।
চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে সংকট। রুমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় গুরুতর রোগীদের ভাড়া করা গাড়িতে করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। এতে দুর্গম এলাকা থেকে সংকটাপন্ন শিশুদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ইতি/
