, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

মক্কা চুক্তিতে নতুন সামরিক জোট

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা  চুক্তি স্বাক্ষরের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দেশের এই সামরিক সহযোগিতাকে কেউ কেউ ‘ইসলামিক ন্যাটো’র সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই এটিকে ন্যাটোর আদলে পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট বলা ঠিক হবে না।

৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে ন্যাটোর ‘আর্টিকেল ৫’-এর মতো আক্রান্ত দেশের পক্ষে অন্য দুই দেশ বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, সে বিষয়ে চুক্তিতে স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি রয়েছে কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়।

কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঘোষণা এসেছে। বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ তৈরি করেছে।

গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগেরের মতে, তিন দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার সমন্বয় আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তিন দেশের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত সক্ষমতা। পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী একমাত্র মুসলিম দেশ। তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প ও বড় সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনী।

ইসলামিক ন্যাটো’ বলা হচ্ছে কেন?

চুক্তিতে এক দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনার ঘোষণা ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য তৈরি করেছে। এ কারণেই এটিকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মুহাম্মদ মুদাসসির কামারের মতে, এই চুক্তিকে এখনই নতুন কোনো সামরিক ব্লক বা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তাঁর মতে, অতীতেও মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তির পেছনে কী?

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে আগে থেকেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। একইভাবে পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক সম্পর্কও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এসব সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করেই নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা কাঠামোর পথ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্ব হলো ইসলামাবাদের পারমাণবিক সক্ষমতা। অন্যদিকে তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রযুক্তি এ সহযোগিতায় বাড়তি সক্ষমতা যোগ করতে পারে।

পাকিস্তানের জন্য এই অংশীদারত্ব মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে তার কূটনৈতিক ও কৌশলগত ভূমিকা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইরান ও ভারতের নজর

চুক্তিটি নিয়ে ইরান ইতিমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছে। দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তা এটিকে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বৈরী সম্পর্ক এবং তুরস্কের ইসলামাবাদপন্থী অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লিও চুক্তিটির দিকে নজর রাখছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।

কতটা বদলাবে আঞ্চলিক সমীকরণ?

নতুন চুক্তি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। তবে এটি ন্যাটোর মতো কার্যকর সামরিক জোটে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে তিন দেশ কী ধরনের যৌথ সামরিক কাঠামো ও বাধ্যবাধকতা তৈরি করে তার ওপর।

তাই আপাতত এটিকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ না বলে তিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কাঠামো হিসেবে দেখাই বেশি বাস্তবসম্মত।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত