, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 25° সে. | 💧 আদ্রতা 96%

আদিবাসী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক মন্ত্রীদের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অস্তিত্ব নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুই মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার কিংবা স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক দুটি সংগঠন।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (সিএইচটিসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্ক গ্রুপ ফর ইন্ডিজেনাস অ্যাফেয়ার্স (আইডব্লিউজিআইএ) বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১১ আগস্ট ঢাকায় ‘বাংলাদেশের জন্য আদিবাসী পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আদিবাসী পরিচয় প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন।

আন্তর্জাতিক সংগঠন দুটির দাবি, অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী জনগোষ্ঠী নেই বলে মন্তব্য করেন এবং সব নাগরিককে বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীও ‘আদিবাসী’ শব্দটির ব্যবহারকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন।

যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানায়, আদিবাসী পরিচয় এবং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব একে অপরের বিরোধী নয়। একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে বাংলাদেশের নাগরিক এবং একটি স্বতন্ত্র আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্য হতে পারেন। তাদের মতে, এই পরিচয়ের স্বীকৃতি দেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে না।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও সাংবিধানিক অঙ্গীকারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সংগঠন দুটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আইএলও কনভেনশন ১৬৯ অনুমোদন না করলেও ১৯৫৭ সালের আইএলও কনভেনশন ১০৭-এর অংশীদার। ফলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয়, সংস্কৃতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ঐতিহ্যগত ভূমিসংক্রান্ত অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে।

তারা আরও দাবি করে, আদিবাসী পরিচয়কে অস্বীকার করার অবস্থান দেশের সংবিধান, বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যধারী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের কথা উল্লেখ রয়েছে।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আদিবাসী পরিচয় নিয়ে অস্বীকৃতির অবস্থান অব্যাহত থাকলে চুক্তির বাস্তবায়ন এবং শান্তিপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠন দুটি।

এ অবস্থায় আদিবাসী প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিএইচটিসি ও আইডব্লিউজিআইএ।

বিবৃতিতে সংগঠন দুটি বলেছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পরিচয় ও অধিকার স্বীকার করা জাতীয় বিভাজন সৃষ্টি করে না; বরং পরিচয় অস্বীকার, বৈষম্য ও দমনমূলক পরিস্থিতিই সামাজিক বিভাজন বাড়াতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত