চট্টগ্রামের উপকূল ও নদী থেকে এক মাসে প্রায় ৩৫ লাখ ইলিশ আহরণ হলেও এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার পরও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে মাছটি এখনো উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা এর জন্য জ্বালানি, পরিবহনসহ মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণের বাড়তি খরচকে দায়ী করছেন।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে জেলার সমুদ্র ও নদী থেকে ১ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হয়েছে। সংখ্যার হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার। আহরিত মাছের বড় অংশ এসেছে সমুদ্র উপকূল থেকে।
সন্দ্বীপ চ্যানেলও ইলিশ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। মৎস্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই মাসে এ এলাকা থেকে ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি ইলিশ আহরণ করা হয়, যার পরিমাণ প্রায় ১০৩ মেট্রিক টন।
এদিকে চট্টগ্রামের বাজারে ইলিশের দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আকারভেদে ৭০০–৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এক কেজি ওজনের মাছের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা। দেড় কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি দাম ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বাজারে ছোট আকারের ইলিশের দামও তুলনামূলক বেশি। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছের ক্ষেত্রেও কেজিপ্রতি দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকার ছোট হলেও চট্টগ্রামে এ ধরনের ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে এর দামও তুলনামূলক চড়া।
চট্টগ্রামের রানি রাসমণি ঘাটে সকালে প্রতি মণ ইলিশ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ঘাট পর্যায়েই প্রতি কেজির দাম প্রায় ৬২০ থেকে ৬৪০ টাকা। এর সঙ্গে পরিবহন, আড়তদারি ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে খুচরা পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।
জেলেদের ভাষ্য, মাছ ধরার ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। জ্বালানি তেল, নৌকা পরিচালনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়ার প্রতিকূলতাও তাদের মাছ আহরণে প্রভাব ফেলছে। এসব ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে বাজারদরেও।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, ইলিশ আহরণ বাড়লেও বাজারে দাম প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি। জেলেদের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ইলিশ ধরা পড়ছে। বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘাটগুলোতে তদারকি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলা কৃষি বিপণন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরবরাহব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে ব্যত্যয় ঘটলে বাজারে দাম বাড়তে পারে। ইলিশের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে
পর্যাপ্ত ইলিশ আহরণ সত্ত্বেও খুচরা বাজারে দাম না কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে জেলেদের জালে ইলিশের জোগান বাড়লেও সেই সুফল এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি ভোক্তাদের কাছে।
ইতি/
