চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শহীদ আবু সাঈদ হলের ক্যানটিনে পরিবেশিত তেহারির মধ্যে ইটের টুকরা পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং খাবারের মান ও ক্যানটিন ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানটিনে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন সময় খাবারে পোকামাকড়, বস্তার সুতা, অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মুরগির মাংস, নিম্নমানের আটা দিয়ে তৈরি পরোটা এবং আগের দিনের খাবার পুনরায় গরম করে পরিবেশনের অভিযোগও উঠেছে। পাশাপাশি রান্নাঘর ও চা প্রস্তুতের স্থান স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে পরিচালিত হয় না বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্যানটিনের সার্বিক মানোন্নয়নে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা, দৃশ্যমান স্থানে নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন, রান্নাঘর ও খাদ্য প্রস্তুতকরণ এলাকার সংস্কার, নিয়মিত স্বাস্থ্য ও মান তদারকি এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর মনিটরিং কমিটি গঠন।
এ বিষয়ে শহীদ আবু সাঈদ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. আজাদ হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং খাবারের মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যানটিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে যেসব অনিয়মের প্রমাণ মিলবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতি/
