আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেওয়া ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তিনি জানান, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সাকিবের বিষয়টি এতদিন তুলনামূলকভাবে নমনীয়ভাবে বিবেচনা করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ আর নেই। সাকিব দেশে ফিরতে চাইলে তাকে প্রচলিত আইন ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফিরতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় সাকিব তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে দেশে ফিরতে না পারায় পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছিলেন এই ক্রিকেটার।
দেশের বাইরে থেকেই ক্রিকেট চালিয়ে যাচ্ছেন সাকিব। সরকার পরিবর্তনের পর বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও অংশ নিয়েছেন। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন সাবেক এই বাংলাদেশ অধিনায়ক।
সাকিবকে আবার জাতীয় দলের ক্রিকেটে ফেরানো এবং দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেসব উদ্যোগের কোনোটি বাস্তবে কার্যকর হয়নি।
এর মধ্যে গত বুধবার ভারতের নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার দেওয়া সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন সাকিব। এর পরদিনই সাকিবের বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
আমিনুল হক বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এতদিন বিষয়টি সহনশীলভাবে দেখার চেষ্টা করেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সেই অবস্থান পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাকিব দেশে ফিরলে তাকে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ফিরতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ এখন আর নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইতি/
