, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 26° সে. | 💧 আদ্রতা 93%

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্য ও দেশে ফেরার ঘোষণা, কী বলছেন বিশ্লেষকেরা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

নয়াদিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলন এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি ও ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপনডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শেখ হাসিনা। একই অনুষ্ঠানে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিকভাবে নিজের প্রভাব ধরে রাখা, সমর্থকদের সক্রিয় রাখা কিংবা দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার মতো একাধিক কারণ থাকতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, শেখ হাসিনা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে তাঁর জন্য তুলনামূলক অনুকূল মনে করতে পারেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরার ইচ্ছাও তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে থাকতে পারে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সিকদারের মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারেন।

দেশে ফিরলে কী হতে পারে

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে এবং তাঁর প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাঁর সমর্থক ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি সক্রিয়তায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার প্রস্তুতি রয়েছে। তাঁকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে চিঠি দেওয়ার কথাও জানিয়েছে ঢাকা।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন চাপ

শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঢাকার দাবি, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে আগেই নয়াদিল্লিকে সতর্ক করা হয়েছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের দায়ও তারা নেয়নি।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে যখন দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বাংলাদেশ ও ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনার ইস্যু, পানি বণ্টন, সীমান্ত ও আঞ্চলিক যোগাযোগ—এসব বিষয় আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত