আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে তাঁর পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তাঁর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। শেখ মুজিবের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একদল সেনাসদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের ঢাকায় অবস্থানরত সদস্যদের হত্যা করে। ধানমন্ডির সেই বাড়িটিই পরবর্তীতেবঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে ১৫ আগস্ট বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফিরে দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তী সময়ে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে দিবসটির সরকারি মর্যাদা ও ছুটির অবস্থানেও পরিবর্তন আসে।
তবে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। একই বছরের অক্টোবরে ১৫ আগস্টসহ কয়েকটি জাতীয় দিবসের সরকারি পর্যায়ের পালন বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ২০২৫ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যবণ্টন থেকেও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের দায়িত্ব সংক্রান্ত বিধান বাদ দেওয়া হয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ দেশের বাইরে অবস্থান করছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে পোস্টার, আলোচনা, দোয়া ও খাবার বিতরণের মতো কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। দেশের বাইরেও দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।
১৫ আগস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ আগস্টে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র্যাব মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছিল।
১৯৭৫ সালের হত্যাকাণ্ডের পর বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে ইনডেমনিটি বাতিলের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। ১৯৯৮ সালে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
৫১ বছর পরও ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায়। দিনটিকে ঘিরে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো জাতীয় শোক কর্মসূচি না থাকলেও রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নিজস্ব কর্মসূচিতে আজকের দিনটি পালিত হচ্ছে।
ইতি/
