চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে পাঁচ দেশের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ও খুলশী থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ওই ভবনটি ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্রতারণা ও অন্যান্য ডিজিটাল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন। সিএমপির তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি মনিটর, কিবোর্ড, মাউস, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ ও চারটি সিমকার্ডসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান কর্মসংস্থান কার্ডও পাওয়া গেছে।
দেড় মাস আগে ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়
পুলিশ জানায়, খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন ওই বিদেশি নাগরিকরা। ভবনটির মালিক একজন দুবাইপ্রবাসী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
একসঙ্গে এতসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান এবং বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের ব্যবহার পুলিশের নজরে আসে। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অনলাইন কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো কর্মকাণ্ড চালানো হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের অনলাইন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন।
জব্দ করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবহৃত ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
দেশি-বিদেশি সহযোগীদের খোঁজ
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি কয়েকজন সহযোগীর বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় থাকা এসব ব্যক্তির ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে বাড়ি ভাড়া নেওয়া, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেনে স্থানীয় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পাসপোর্ট ও বাংলাদেশে অবস্থানের বিষয়েও তদন্ত
গ্রেপ্তার ৬৩ জনের কারও কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ধারণা, তাদের পাসপোর্ট কোনো একজন ব্যক্তির কাছে জমা থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে তারা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, তাদের ভিসার ধরন, দেশে অবস্থানের বৈধতা, ভবন ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় যোগাযোগের বিষয়গুলোও যাচাই করা হচ্ছে।
বড় নেটওয়ার্কের সন্ধানে পুলিশ
একটি আবাসিক ভবন থেকে একসঙ্গে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার এবং বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে দেশি-বিদেশি সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় এর পেছনে আরও বড় কোনো নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত অগ্রসর হলে ওই ভবন থেকে পরিচালিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের ধরন এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ইতি/
