, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 73%

চট্টগ্রামে ছয় মাসে হামের উপসর্গে ভর্তি সাড়ে ৭ হাজারের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। গত ছয় মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭ হাজার ৬৩১ শিশু। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে ১৪টি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালটিতে প্রথমে শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় ১৬ শয্যার হাম কর্নার চালু করা হয়। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরে ৫০ শয্যার পৃথক হাম ব্লক চালু করা হয়। তবে বর্তমানে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হামের উপসর্গযুক্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ১০ শয্যার পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) নিয়েও চাপ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগীদের কারণে এসব শয্যা প্রায় সবসময়ই পূর্ণ থাকছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, একদিনে নতুন করে আরও ৪০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের মার্চের মাঝামাঝি থেকে চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৩১ জনে।

চিকিৎসকদের মতে, হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের বড় একটি অংশের বয়স দুই বছরের নিচে। অনেক শিশুর টিকা নেওয়ার বয়স এখনও হয়নি। আবার কেউ টিকা নেয়নি, কেউ নিয়েছে মাত্র এক ডোজ। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশুকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে দেখা যাচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, হামের পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিদিনই হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে আসছে। তাদের মধ্যে কেউ টিকা নেয়নি, কারও টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি, আবার কেউ প্রথম ডোজ নিলেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুও রয়েছে। রোগীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত শিশুর সংস্পর্শে অন্য শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীদের পৃথকভাবে চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর চাপ নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেড়েছে, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি-হাঁচির মাধ্যমে এটি ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হলে নিউমোনিয়াসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

তাদের পরামর্শ, শিশুর জ্বরের সঙ্গে কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া বা শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।

এদিকে হাম নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী দ্বিতীয় দফায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছিল।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান, শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আতঙ্কিত না হয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত