বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সক্ষমতা বাড়াতে কক্সবাজারে নতুন একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দেশে আন্তর্জাতিক যাত্রীসংখ্যা বছরে ২ কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি তা ৩ কোটি পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। যাত্রী ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লে বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হবে। এ কারণে ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজন হবে।
সংলাপে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। এ জন্য আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, যাত্রী ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং দ্রুত গ্রাউন্ড সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এয়ারলাইনসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে এভিয়েশন খাতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
এ সময় ৪২ বছর পুরোনো বেসামরিক বিমান চলাচল-সংক্রান্ত বিধি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের কাজের ক্ষেত্রে যেসব নীতিগত জটিলতা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে, সেগুলো দূর করে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতি
সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বিমানবন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি দেশের নিজস্ব উড়োজাহাজ বহর, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, কার্গো পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টার্মিনালটি সীমিত পরিসরে চালুর পর আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় এটি বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ অতিরিক্ত যাত্রী ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি করবে।
খরচ ও নীতিগত জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ
সংলাপে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিভিন্ন ধরনের কর, চার্জ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, যন্ত্রাংশ আমদানি ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে দেশের এয়ারলাইন ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বাড়ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এয়ারলাইনসের ওপর কর ও চার্জের চাপ কমানোর পাশাপাশি নীতিগত সংস্কার এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সরকারের সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দক্ষ জনবল তৈরির তাগিদ
নীতি সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দক্ষ জনবলের ঘাটতি। বিশেষ করে পাইলট ও লাইসেন্সধারী উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।
এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে প্রশিক্ষণ অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, এয়ারলাইনস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে কার্যকর ‘এভিয়েশন ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বেবিচকের সদস্য (এটিএম) এয়ার কমোডর নূর-ই-আলম জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দর উন্নয়ন এবং সীমিত বা বন্ধ থাকা কয়েকটি বিমানবন্দরকে পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় এসব বিমানবন্দরের সম্ভাব্যতা ও সক্ষমতা নিয়েও কাজ চলছে।
দেশের এভিয়েশন খাতের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, কূটনীতিক, উদ্যোক্তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নীতি সংলাপে অংশ নেন।
ইতি/
