, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 72%

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু, বাঁচল না গর্ভের সন্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যে প্রাণ গেল ২৬ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন নগরীর পাথরঘাটা এলাকার সানরাইজ গ্রামার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা অর্পিতা দাশ। তাঁর মৃত্যুর পর গর্ভে থাকা সন্তানকেও মৃত অবস্থায় প্রসব করানো হয়েছে। অর্পিতা ছিলেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গুর জটিলতায় তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকে প্রায় ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে অর্পিতার প্রথম সন্তান জন্মের সম্ভাব্য সময় ছিল। গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরদিন একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি ঘটায় পরে তাঁকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরদিন সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অর্পিতার মৃত্যুর পর তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানও আর বেঁচে ছিল না। ফলে একই ঘটনায় মা ও অনাগত সন্তানকে হারিয়ে শোকের মধ্যে পড়েছে পরিবারটি।

এদিকে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১২ সেপ্টেম্বরের দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪৪ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১০ জন ভর্তি হন। সরকারি হাসপাতালের নতুন রোগীদের মধ্যে চমেক হাসপাতালে ২৬ জন, ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ১০ জন, সিএমএইচে ২ জন এবং বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন রয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ৭৯৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৫৬৯ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ জন হিসেবে দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও অর্পিতা দাশের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জনে দাঁড়ানোর কথা জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার মধ্যেই অন্তঃসত্ত্বা অর্পিতা দাশ ও তাঁর অনাগত সন্তানের মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত