, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 79%

সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ গ্রহণ, আদালতে দুই কর্মচারীর স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার দুই কর্মচারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তাঁরা দাবি করেছেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই দলিল নিবন্ধনের জন্য ঘুষের টাকা গ্রহণ করেছিলেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ। তাঁদের জবানবন্দিতে সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে দুদক।

আদালতে ফারুক ইসলাম বলেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা গ্রহণ করেন। উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে ওই অর্থ তাঁর কাছে পাঠানো হচ্ছিল বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

উমেদার রূপণ দাশ জানান, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি ওই কার্যালয়ে কর্মরত। যে দলিল নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। অথচ দলিল নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে বলা হয়, প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন দেওয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় তাঁর বাসায় গিয়ে অবশিষ্ট টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় বলে তাঁরা দাবি করেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ জানান ওই আইনজীবী।

অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুদকের একটি দল কার্যালয়টিতে অভিযান চালায়। এ সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সাবরেজিস্ট্রারসহ তিনজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, তিনজনের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তাঁরা সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে দলিল নিবন্ধনের সময় ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এদিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু বলেন, ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা হওয়ার কথা নয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন জানান, ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার দুই কর্মচারী আদালতে ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্র শনাক্তে দুদকের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত