, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 80%

এলপিজি আমদানি কমেছে ২৫%, ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সিলিন্ডারের দাম। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার পর অনেক এলাকায় ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে।

বিইআরসি ও খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে আমদানির পরিমাণ কমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে নেমেছে। অর্থাৎ এক মাসে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

এদিকে সেপ্টেম্বরের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। আগস্টের নির্ধারিত দরের তুলনায় এটি ১৩ টাকা কম। নতুন দর ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়।

তবে সরবরাহ সংকটের কারণে বাস্তবে নির্ধারিত দরে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। অর্থাৎ বিইআরসির নির্ধারিত দরের তুলনায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়তি দিতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পরিবহন জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে জাহাজ ও এলপিজি কার্গোর সংকটের পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। বাংলাদেশের এলপিজির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।

আমদানিকারকদের ভাষ্য, বৈশ্বিক বাজারে কার্গো সংগ্রহের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত দরে এলপিজি বিক্রি করে অতিরিক্ত আমদানি ও পরিবহন ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) আবু সাঈদ রেজার ভাষ্য, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় কার্গো পাওয়া। আগে কোনো একটি নৌপথে সমস্যা হলে বিকল্প পথে সরবরাহ আনার সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগও সীমিত।

ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজীম চৌধুরী জানান, সেপ্টেম্বর মাসে তাদের প্রতিষ্ঠান প্রায় ৩০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে উৎপাদক পর্যায়ে সরবরাহে বিঘ্ন থাকলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা চেষ্টা করছেন।

বাংলাদেশে এলপিজির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ টন। এর বড় অংশ গৃহস্থালির রান্নায় ব্যবহৃত হয় এবং চাহিদার প্রায় পুরোটাই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জাহাজ সময়মতো দেশে না পৌঁছানোর কারণে সেপ্টেম্বরে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমদানিকারকদের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে আন্তর্জাতিক নৌপথের জটিলতা অব্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত এলপিজি কার্গো নিশ্চিত করা না গেলে অক্টোবরেও বাজারে সংকট থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত