, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 78%

নাস্তা নিয়ে কলহের জেরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু চমেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে নেওয়া নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর বিরুদ্ধে। ঘটনার নয় দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন সিফাতুন নুর (২২)। তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সিফাতুন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।

সিফাতুনের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার (৫৫) মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাস্তা নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তার মাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময় রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তাদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার। অভিযোগে তার মেয়ের শাশুড়িসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিফাতুনের বাবা মো. নুরের দাবি, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার করা হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর বিষয়েও তিনি অবগত হয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরু|ইতি

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত