, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 75%

চট্টগ্রামের যানজট নিরসনে নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরীর দীর্ঘদিনের যানজট, অব্যবস্থাপনা ও সড়কে শৃঙ্খলার ঘাটতি নিরসনে ২৫ দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। এ দাবিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়ার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দামপাড়া পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়।

স্মারকলিপি গ্রহণ করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবীর ভূঁইয়া নাগরিক ফোরামের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, নগরের যানজট নিরসনে নাগরিক সমাজের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে

নাগরিক ফোরামের ২৫ দফা দাবিতে নগরীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক, কালো ধোঁয়া এবং হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফোরামের নেতারা বলেন, শুধু নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। যানজটের কারণগুলো এলাকাভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে যানজটের ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সাময়িক অভিযান নয়, ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ের মতো সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, নগরের প্রতিটি এলাকার যানজটের ধরন এক নয়। কোন এলাকায় কোন সময়ে এবং কী কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে, তা তথ্যভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ফোরামের নেতারা আরও বলেন, ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীরা অনেক সময় মূল সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হন। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

২৫ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য বিষয়

নাগরিক ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

– যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোকে বিশেষ ট্রাফিক জোনের আওতায় এনে পিক আওয়ারে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন;

– ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা;

– অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ;

– লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা;

– ফিটনেসবিহীন ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণ;

– হাইড্রোলিক হর্নের ব্যবহার বন্ধ করা;

– রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার, চকবাজার, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর ও অক্সিজেন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা;

– চাকতাই-খাতুনগঞ্জ এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ;

– বাস ও সিএনজি অটোরিকশার চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা;

– সিসিটিভি ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো;

– অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনের দ্রুত চলাচলের ব্যবস্থা করা;

– সিএমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও বিআরটিএর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা।

জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

স্মারকলিপি প্রদান শেষে পুলিশ লাইন ক্যান্টিনে নাগরিক ফোরামের নেতাদের অংশগ্রহণে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মাহফুজুর রহমান, মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন, মহানগর সভাপতি হামিদ হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল কান্তি বড়ুয়াসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রশাসনের পাশাপাশি নগরবাসী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ থাকলে চট্টগ্রামের যানজট ও সড়ক ব্যবস্থাপনার সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত