মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর নির্ধারিত এলাকায় শুরু হয়েছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মাছ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগে বুধবার চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য ভিড় দেখা যায়। তবে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় শেষ মুহূর্তে ইলিশের দাম ছিল বেশ চড়া।
স্থানীয় বাজারের তথ্য অনুযায়ী, দেড় কেজি ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকায়। ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ছিল প্রায় ৩ হাজার টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
মাছঘাট সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ দিনে প্রায় ৪০০ মণ ইলিশ ঘাটে এলেও ক্রেতার তুলনায় সরবরাহ কম ছিল। এতে বাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি অনেক ক্রেতাকে ইলিশ না কিনেই ফিরে যেতে হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার নিষেধাজ্ঞার আগের দিন ঘাটে ইলিশের সরবরাহ কম ছিল। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে মাছ কেনার জন্য ক্রেতাদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দামের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। এর আগেও ৫ অক্টোবর চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের দাম কেজিতে কয়েকশ টাকা পর্যন্ত বাড়ার খবর পাওয়া যায়।
এদিকে নিষেধাজ্ঞা সফল করতে চাঁদপুরে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্ধারিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ৩০ অক্টোবর থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আবারও মাছ আহরণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতি/
