চট্টগ্রাম নগর থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে মিরসরাই ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় মজুত রাখার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আটটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুর রহমান, মাইনুদ্দিন মুরাদ, শাহাদাত হোসেন ও আবু হুরায়রা। পুলিশের ভাষ্য, চক্রটির সদস্যরা নগরের তুলনামূলক নির্জন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতেন। পরে চুরি করা যানবাহন চট্টগ্রাম ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় লুকিয়ে রেখে বিক্রির চেষ্টা করা হতো।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) হাবিবুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলের লক খুলে চুরি করতে তাঁদের এক থেকে দুই মিনিট সময় লাগত। চুরি করা যানবাহন নগরে না রেখে মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এবং নোয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে রাখা হতো।
যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়
পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর ভোরে নগরের সিআরবি কাঠের বাংলো এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বাইসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের ইছহাক ড্রাইভার হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাইনুদ্দিন মুরাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে মিঠানালার রহমতাবাদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
পরদিন ১৩ অক্টোবর জোরারগঞ্জের ইছাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর হেফাজত থেকেও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
একই দিন নোয়াখালীর সুধারাম থানার এওয়াজবালিয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে আবু হুরায়রাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকে দুটি মোটরসাইকেল ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে দাতপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর এলাকার একটি বাড়ি থেকে আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার অভিযানে ছয়টি মোটরসাইকেল উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নোয়াখালী থেকে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটটিতে।
চক্রের নেতৃত্বে আবদুর রহমান, বলছে পুলিশ
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুর রহমান চক্রটির নেতৃত্ব দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চারটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় চক্রটির সদস্যদের তৎপরতা ছিল। উদ্ধার হওয়া যানবাহনগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে মজুত রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির কার্যক্রম ও চুরি হওয়া অন্যান্য যানবাহনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইতি/
