, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 27° সে. | 💧 আদ্রতা 94%

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট চরমে, দুপুরের রান্না শেষ হচ্ছে বিকেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামে গ্যাসের সরবরাহ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। কোথাও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলায় গ্যাস মিলছে না, আবার কোথাও বিকেলের আগে রান্না শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক পরিবারকে গ্যাসের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। গ্যাস এলেও চাপ কম থাকায় রান্নার কাজ শেষ করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।

কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অনেক কম গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলেছে প্রায় ২৩ কোটি ঘনফুট, অর্থাৎ প্রয়োজনের মাত্র ৬৬ শতাংশ। ঘাটতি মোকাবিলায় শিল্প, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কমিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চট্টগ্রামের গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে একটি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। এর ফলে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে এর আগে গ্যাস পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার বিষয়ে গ্রাহকদের জন্য আগাম কোনো সময়সূচি বা সতর্কবার্তা প্রকাশ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অন্তত নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হলে তারা দৈনন্দিন কাজের পরিকল্পনা করতে পারতেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত