রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে সোমবার অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী রাজনীতির অবস্থান এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি)–এর জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো মির্জা এম হাসান বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সক্রিয় রাজনীতির বাইরে রয়েছে, জামায়াতে ইসলামী এখনও পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগোতে পারছে না এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সাংগঠনিকভাবে এখনও ছোট একটি রাজনৈতিক শক্তি।
‘ট্রাজেক্টরি অব নন-ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মির্জা এম হাসান বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্ষমতার কাঠামো ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে প্রতিযোগিতা এবং সংঘাতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ অনেক সময় শক্তির ভারসাম্য ও ক্ষমতার সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক নিপীড়নের তুলনামূলক হালকা চিত্র দেখা গেলেও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতেও বাংলাদেশে একই ধরনের রাজনৈতিক চক্র বারবার ফিরে এসেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে মির্জা এম হাসান বলেন, নতুন রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তির আবির্ভাব হলেও তা এখনও টেকসই রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে পারেনি। এর ফলে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো আবারও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণে, বিএনপি ধীর কৌশলে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে, জামায়াতে ইসলামী নিজেদের মূলধারার রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে এবং এনসিপি রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি তিন ধরনের গণতান্ত্রিক ধারণার কথা তুলে ধরেন—প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনী গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসনভিত্তিক উদার গণতন্ত্র এবং সরাসরি নাগরিক অংশগ্রহণনির্ভর ডিরেক্ট ডেমোক্রেসি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণভিত্তিক গণতন্ত্র নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।
সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন। দিনব্যাপী আয়োজনে ভোটের আচরণ, রাজনৈতিক দলগুলোর পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনটি পৃথক অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টার–এর সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আইনজীবী সারা হোসেনসহ বিভিন্ন গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইতি/
