, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 28° সে. | 💧 আদ্রতা 86%

নতুন গ্যাসের উৎস খুঁজছে সরকার

আলোচনায় মিয়ানমার

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন সরবরাহ উৎস খুঁজছে সরকার। এলএনজি আমদানির পাশাপাশি এবার মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আনার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সম্প্রতি সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের বৈঠকে এ বিষয়টি উঠে আসে। বৈঠকে বাংলাদেশ গ্যাসের ঘাটতি পূরণে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উদ্যোগটি এখনো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। কত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাবে, কোন গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ হবে, পাইপলাইনের সম্ভাব্য রুট কী হবে, নির্মাণ ব্যয় কত হতে পারে এবং নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা হয়নি।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের গ্যাস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তা বাস্তবায়নের আগে অর্থনৈতিক, কারিগরি ও ভূরাজনৈতিক দিকগুলো গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাখাইন অঞ্চলের অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব, রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কূটনৈতিক জটিলতা এবং মিয়ানমারের বিদ্যমান রপ্তানি চুক্তিগুলো এই উদ্যোগের বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এছাড়া দেশটির গ্যাস উৎপাদনও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে।

তাই সংশ্লিষ্টদের মতে, মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও এটি বাংলাদেশের বর্তমান গ্যাস সংকটের দ্রুত সমাধান নয়। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাণিজ্যিক সমঝোতা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ওপরই প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত