দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, নতুন মিটার ব্যবহারের পর আগের তুলনায় বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে বলে দাবি করছেন তারা।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রাহকদের উদ্বেগ ও মতামতের যথাযথ সমাধান ছাড়াই নতুন মিটার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভ, মিটার স্থাপনে বাধা এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রিপেইড ব্যবস্থায় বিদ্যুতের প্রকৃত ব্যবহারের বাইরে মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ, রিচার্জ-সংক্রান্ত বিভিন্ন ফি এবং ভ্যাট কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। এছাড়া ঘন ঘন রিচার্জের ঝামেলা এবং ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন অনেকে।
এদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। গ্রাহকদের দাবি, একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম, অন্যদিকে বিলের চাপ—দুই মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর দাবি, প্রিপেইড মিটার গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনে এবং বকেয়া বিলের ঝুঁকি কমায়। তাদের মতে, প্রিপেইড মিটারে অতিরিক্ত ইউনিট যোগ করা হয় না; বিদ্যমান সরকারি ট্যারিফ অনুযায়ীই বিল কাটা হয়। তবে নতুন ব্যবস্থার চার্জ ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেক গ্রাহকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিপেইড মিটার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, চার্জের বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ইতি/
