দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী মাসে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। তবে উৎপাদন শুরুর আগে প্রতিটি নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ মে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধাপের কারিগরি পরীক্ষা চলছে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার ফিশন বা বিভাজন বিক্রিয়া শুরু করা হবে। ওই বিক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ থেকে বাষ্প তৈরি করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় যুক্ত হবে।
রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নকারী নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। কোনো পরীক্ষা ব্যর্থ হলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর পুনরায় যাচাই করা হবে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উৎপাদনের তারিখ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরীক্ষার জটিলতা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের কারণে সময় কিছুটা বাড়তে পারে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনও কয়েক মাস ধরে চলবে। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে আগামী বছর একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং নির্মাণকাজে রয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি নিরাপদভাবে সংরক্ষণের পর রাশিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আগেই চুক্তি হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে, জাতীয় গ্রিডকে রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রহণের উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করা উচিত হবে না। প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরই পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাওয়া প্রয়োজন।
ইতি/
