, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 25° সে. | 💧 আদ্রতা 96%

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে আগেই উদ্বেগ জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্বশীল ও কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অনুষ্ঠানের আগে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে ঢাকার নীতিনির্ধারকদের যোগাযোগ হয়েছিল। তখন শেখ হাসিনার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ জানানো হয়। ভারতীয় পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটি সীমিত পরিসরে হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি ঢাকার।

এর আগে গত ৩০ জুলাই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর কয়েক দিনের মধ্যেই দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি মতবিনিময় নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ঘটনার পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায়। ঢাকার বক্তব্য, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এমন রাজনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি অবমাননাকর। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও উদ্বেগ জানানো হয়।

তবে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, দিল্লির ওই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, ভারত সরকার তা অনুমোদন করে না।

শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে ঘিরে এর আগেও দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা গেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দিলেও দিল্লিতে সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ছিল তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা।

এদিকে ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, শেখ হাসিনাকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁকে ভারতের ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয় দুটি আলাদা। ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক কোনো এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে প্রভাবিত হওয়া উচিত নয় বলেও মত এসেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। তবে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ বিবেচনায় সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো ধরে রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে।

এরই মধ্যে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মতবিনিময়ের পর ওই সফর ও সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠল নিয়ে ঢাকার সিদ্ধান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত