, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 73%

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারসহ দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ রোববার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলো আগের একটি অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে যাচাই করা হবে।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। অভিযোগে দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চার দেশে অভিযোগকৃত অর্থের পরিমাণ মোট ১১ হাজার কোটি টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এসব অর্থ দিয়ে বিভিন্ন দেশে বিলাসবহুল সম্পদ কেনা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি; অনুসন্ধানের মাধ্যমে তা যাচাই করবে দুদক।

বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জন জেলা প্রশাসকের পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের দরপত্র কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। কিছু প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কয়েকজন কর্মকর্তার নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে পদায়নের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছিল। নতুন অভিযোগগুলো ওই অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে দুদক জানিয়েছে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন এবং দুদকের বক্তব্যের কারণে তাকে নিয়ে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ফলে বিদেশে অর্থ পাচার, নিয়োগ-পদায়ন, টেন্ডার ও প্রকল্পসংক্রান্ত যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলোর নথি, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা অনুসন্ধানের মাধ্যমে কতটা সত্যতা পাওয়া যায়—এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ইতি/,

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত