, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 31° সে. | 💧 আদ্রতা 69%

চট্টগ্রামে ১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের একটি মশলা মিলে কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে মশলা তৈরি, অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং পচা মরিচ প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রমে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগরের বিচারক মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

অভিযানে লালখানের হাইওয়ে সুইটস অ্যান্ড বেকারিতে মানহীন ঘি দিয়ে মিষ্টি তৈরি, মান নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই টোস্ট-বিস্কুট বিক্রি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ছানা প্রক্রিয়াকরণ এবং তেলাপোকার উপস্থিতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের জসিম মশলা মিলে কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে মশলা উৎপাদন, অননুমোদিত রং ব্যবহার এবং নোংরা ও পচা মরিচ দিয়ে মশলা তৈরির অভিযোগ ওঠে। সরকারি কাজে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনায় মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চকবাজারের বালি আর্কেডের ফুড কোর্টে একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। কেএফসিকে পচা আলু ও পচা মজেস ব্যবহার করে খাবার তৈরির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফুচকা খাদককে পচা আলু ও পচা আম ব্যবহারের দায়ে ৩০ হাজার টাকা এবং স্ট্রিট ইটসকে পোড়া তেল ব্যবহার, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন, খামিতে ময়লা থাকা এবং কাঁচা-রান্না করা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গ্রিল মাস্টার অ্যান্ড পাপাচিনোতে পচা গাজর, মেয়াদোত্তীর্ণ চীনা সবজি, পচা পেঁয়াজ ও নিম্নমানের সস ব্যবহারের পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বক্সে গরম খাবার রাখা এবং খোলা অবস্থায় মাশরুম ও ব্ল্যাক অলিভ সংরক্ষণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। লাজজাতকে মেয়াদোত্তীর্ণ মুরগি ও ব্রেডক্রাম্ব, অননুমোদিত রং মিশ্রিত মরিচ, নিম্নমানের সস এবং নষ্ট বাদাম সংরক্ষণের দায়ে একই পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে।

দিল্লি দরবার অ্যান্ড সালাদ লাভার্সে অপরিষ্কার পাত্রে রান্না, কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গে রাখা, খোলা অবস্থায় রান্না করা খাবার সংরক্ষণ, অননুমোদিত রং মিশ্রিত মরিচ ব্যবহার এবং পচা আলু, মেয়াদোত্তীর্ণ ফল ও দই রাখার অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

চিলিসকে কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে রাখা, চুলা থেকে ময়লা খাবারে পড়া, অপরিষ্কার মুরগি সংরক্ষণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এলিগ্যান্টে পচা গন্ধযুক্ত মাংস, পচা মাশরুম ও পচা চীনা সবজি দিয়ে খাবার তৈরির অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া দ্য বোন চাইনা ও ৯ ক্যান্ডেল ২.০-কে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস সংরক্ষণের দায়ে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। ওয়াফেল কিংকে একই ধরনের মাংস ও পচা লেমনগ্রাস রাখার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

হটডগ অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে পাঙাশ মাছকে ডরি ফিশ হিসেবে বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস এবং মেয়াদোত্তীর্ণ খামি সংরক্ষণের অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দ্য ওয়াফেলকে মেয়াদোত্তীর্ণ ডুডু সংরক্ষণ, মাংসের সঙ্গে বরফ তৈরি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

টমিয়ামকে অতিরিক্ত টক মিশ্রিত রান্না করা স্যুপ ফ্রিজে সংরক্ষণের দায়ে ১০ হাজার টাকা এবং দ্য চিকেন বক্সকে মেয়াদোত্তীর্ণ নাশপাতি ও রক্তমাখা মুরগির হাড়-মাংস রাখার অভিযোগে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ফুচকাওয়ালা অ্যান্ড জুসবারকে পচা গাজর ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি-টক দই সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা এবং দ্য মাঞ্চগাইকে পচা মাংস ও কাঁচা-রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখার দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক, আরএসআরবি-৭, সিএমপি এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত