, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 29° সে. | 💧 আদ্রতা 76%

ওমান উপকূলে জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আতঙ্কের অডিও বার্তা পাঠান চট্টগ্রামের প্রকৌশলী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অসুস্থ ভাইকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাবার পাঠানো একটি অডিও বার্তা শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন চট্টগ্রাম নগরের এনায়েতবাজারের বাসিন্দা মো. সাকিব আমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বার্তায় তাঁর বাবা মো. আমান উল্লাহ জানান, তাঁদের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এরপর কিছু সময় বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্বেগ আরও বাড়ে পরিবারের।

মো. আমান উল্লাহ ‘এমভি কেপ দাও’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের দিকে যাওয়ার পথে ওমানের মুসান্দাম উপকূলের কাছে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।

পরিবারের বরাতে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১টা ৬ মিনিটে সাকিব আমানের হোয়াটসঅ্যাপে বাবার নম্বর থেকে অডিও বার্তাটি আসে। বার্তায় আমান উল্লাহ জাহাজে হামলার কথা জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া চান। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে বিষয়টি না জানানোর অনুরোধ করেন, যাতে তিনি অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় না পড়েন।

তবে গাড়ির লাউড স্পিকারে অডিওটি চালানোয় সাকিবের মা-ও বার্তাটি শুনে ফেলেন। ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শোনার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ইঞ্জিনকক্ষের কাছে আঘাত, ক্ষতিগ্রস্ত কেবিন

সাকিব আমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির পেছনের অংশে ইঞ্জিনকক্ষ ও নাবিকদের আবাসন এলাকার কাছে পরপর দুটি আঘাত লাগে। এতে তাঁর বাবার কেবিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হামলার সময় আমান উল্লাহ কেবিনে ছিলেন না; দায়িত্ব পালন করছিলেন নিয়ন্ত্রণকক্ষে। এ কারণে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

ওমানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী জাহাজটি মুসান্দাম উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়ার পর ইঞ্জিনকক্ষে আগুন ধরে যায়। পরে রয়্যাল নেভি অব ওমানের সহায়তায় ২৭ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহত নাবিক ভারতীয় নাগরিক। জাহাজটিতে ভারতীয় নাবিক ছিলেন ২০ জন; তাঁদের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ

সাকিব আমান জানান, হামলার পর তাঁর বাবাসহ জীবিত নাবিকদের জাহাজ থেকে সরিয়ে ওমানে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে তাঁর বাবার আবার যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

সাকিব বলেন, বাবার পাঠানো বার্তাটি শোনার পর তাঁরা বুঝতে পারছিলেন না কী করবেন। পরে বাবাকে উদ্ধার করে নিরাপদে ওমানে নেওয়ার খবর পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

আমান উল্লাহ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ১৫তম ব্যাচের সাবেক ক্যাডেট। তাঁর ছেলে সাকিব আমান বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৩তম ব্যাচের ক্যাডেট এবং বর্তমানে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।

ইতি//

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত