, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 74%

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতির দিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে অভিযান চালিয়ে ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেওয়া এই বিপ্লবী মাত্র ২১ বছর বয়সে জীবন উৎসর্গ করেন

চট্টগ্রাম: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে সাহসী নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতির দিন আজ ২৪ সেপ্টেম্বর। ১৯৩২ সালের এই দিনে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে সশস্ত্র অভিযানের পর ব্রিটিশ পুলিশের হাতে বন্দি হওয়া এড়াতে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করেন। তাঁর আত্মত্যাগ উপমহাদেশের ঔপনিবেশিকবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।

১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে বিপ্লবী নেতা মাস্টারদা সূর্য সেনের পরিকল্পনায় প্রীতিলতার নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে অভিযান চালান। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সমাজের বৈষম্যমূলক মানসিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ক্লাবটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত ওই অভিযানে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নারী নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন। প্রীতিলতাও গুলিবিদ্ধ হন।

অভিযান শেষে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি সঙ্গে থাকা পটাশিয়াম সায়ানাইড গ্রহণ করেন। পরদিন তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জন্ম ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে। তাঁর বাবা জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার চট্টগ্রাম পৌরসভায় চাকরি করতেন এবং মা প্রতিভাময়ী দেবী ছিলেন গৃহিণী। শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দেন তিনি।

চট্টগ্রামের ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষে তিনি ঢাকার ইডেন কলেজে পড়াশোনা করেন। পরে কলকাতার বেথুন কলেজে দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর চট্টগ্রামে ফিরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। তিনি নন্দনকানন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্বও পালন করেন।

শিক্ষকতা থেকে বিপ্লবী আন্দোলনে

শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রীতিলতা ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৩২ সালে ধলঘাটে বিপ্লবীদের সঙ্গে ব্রিটিশ বাহিনীর সংঘর্ষের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তী সময়ে সূর্য সেনের পরিকল্পনায় পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে অভিযানের নেতৃত্ব তাঁর ওপর অর্পিত হয়।

বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক

পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে ইউরোপীয়দের সামাজিক আধিপত্যের একটি প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। ক্লাবটিতে ভারতীয়দের প্রবেশে বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত। এই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে বিপ্লবীরা ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।

প্রীতিলতার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এবং পরবর্তী আত্মাহুতি তাঁকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর জীবন ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেওয়া এক শিক্ষিত তরুণীর সংগ্রামের ইতিহাস।

চট্টগ্রামের এই বিপ্লবীর আত্মত্যাগ আজও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। তাঁর সাহস, নেতৃত্ব ও সংগ্রামী জীবন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত