দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ)। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারের প্রথম সপ্তাহ থেকে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার হামিদচরে নির্মিত স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্নাতক পর্যায়ের সব শ্রেণির পাঠদান শুরু হবে।
একই সময়ে ওই সেমিস্টারে নতুন করে ভর্তি হওয়া মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাসও চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। তবে বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পাঠদান আপাতত ঢাকার মিরপুর-১২-এর অস্থায়ী ক্যাম্পাসেই চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রমসংক্রান্ত এক নোটিশে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মেরিটাইম বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের প্রথম বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু হয়। একই সময়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বাকলিয়ার হামিদচরে প্রায় ১০৬ দশমিক ৬ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে নির্মাণকাজ ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকার পল্লবী, মিরপুর-১২ এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টারকে সামনে রেখে শ্রেণিকক্ষ ও অফিসের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, আসবাবপত্র, স্থায়ী সম্পদ এবং জনবল স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটি’ গঠন করেছে। কমিটি বর্তমানে স্থানান্তরের বিভিন্ন ধাপ নির্ধারণ করে সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ করছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বিঘ্নে শুরু করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রামের স্থায়ী ক্যাম্পাস সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থানান্তরের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার কথাও রয়েছে।
স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ডিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অনুষদ থেকে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট মনোনীত করে তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর জমা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও দপ্তরগুলোকে আগামী ৪ অক্টোবরের মধ্যে স্থানান্তর-সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা ও মতামত ক্যাম্পাস স্থানান্তর সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে পাঠাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও নীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মেরিটাইম শিক্ষা, গবেষণা এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যেই বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। মেরিন অফিসার ক্যাডেটদের আন্তর্জাতিক মানের ‘ব্যাচেলর অব মেরিটাইম সায়েন্স’ ডিগ্রি দেওয়ার পাশাপাশি মেরিটাইম খাতের বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে এখানে।
প্রতিষ্ঠার পর বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি এশিয়ার দ্বিতীয় এবং বিশ্বের ১২তম মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের তথ্য।
সব প্রস্তুতি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের এপ্রিল সেমিস্টার থেকেই চট্টগ্রামের হামিদচরে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু হবে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অস্থায়ী ক্যাম্পাসনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমের অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামে নতুন পর্বে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি।
ইতি/
