, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 72%

পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজার রুটের ট্রেনে বসছে সিসিটিভি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঠেকাতে এবার নজরদারি বাড়াচ্ছে রেলওয়ে। এরই অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে কক্সবাজার রুটের পর্যটক এক্সপ্রেসের একটি বগিতে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেনের বাইরে থেকে পাথর বা ইটের টুকরা ছোড়ার ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়ার পাশাপাশি কোচের জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়ায় এবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার রুটে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বারবার ঘটছে। এ কারণে একটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। এর কার্যকারিতা সন্তোষজনক হলে পর্যায়ক্রমে অন্য ট্রেনেও ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন মোট চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।

পাথর নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে এর আগে তথ্যদাতাদের জন্য আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছিল রেলওয়ে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম–দোহাজারী–কক্সবাজার নতুন রেলপথ চালু হওয়ার পর থেকে ট্রেনযাত্রায় মানুষের আগ্রহ বাড়লেও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা যাত্রীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। রেলওয়ে সূত্রের হিসাবে, গত দেড় বছরে এ ধরনের ৫০টির বেশি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়েও কয়েকটি ঘটনায় যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ২২ আগস্ট লোহাগাড়ায় কক্সবাজার এক্সপ্রেসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক যাত্রীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এর আগে ২৭ এপ্রিল চকরিয়া এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় তিন যাত্রী আহত হন; তাঁদের একজনের কয়েকটি দাঁত ভেঙে যায়। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারিও পর্যটক এক্সপ্রেসে পাথরের আঘাতে এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, কক্সবাজারের রামু, ইসলামাবাদ, চকরিয়া ও হারবাং এলাকায় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। বিশেষ করে দিনের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনে এ ধরনের ঘটনার প্রবণতা রয়েছে।

পাথর নিক্ষেপ বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও মতবিনিময় সভা করা হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ফলে এখন সিসিটিভির মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে রেলওয়ে।

রেলওয়ে আইন অনুযায়ী, যাত্রীদের ক্ষতির আশঙ্কা জেনেও চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত