, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 30° সে. | 💧 আদ্রতা 75%

রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ওয়াসার রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের গতি এসেছে। দীর্ঘদিন মাসে ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার পর সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মাসে ২৮ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। বকেয়া আদায়ে বিশেষ অভিযান, মাঠপর্যায়ে মনিটরিং এবং গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করার নানা উদ্যোগের ফলে এই সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে ওয়াসা।

চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে পানির বিল থেকে আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ১৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। চলতি বিল থেকে এসেছে ১৪ কোটি ১৯ লাখ ১১ হাজার টাকা, আর বকেয়া বিল থেকে আদায় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া সারচার্জ থেকে ৮০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, গভীর নলকূপ ফি থেকে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং নতুন সংযোগ খাত থেকে ৩৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় হয়েছে। এর আগের মাস আগস্টে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

তবে এখনো চট্টগ্রাম ওয়াসার মোট বকেয়া রয়েছে প্রায় ২৫৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাছে পাওনা ৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছে বকেয়া ১৮৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

বকেয়া আদায়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে রাজস্ব ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত আটটি মনিটরিং টিম। নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, রাজস্ব তত্ত্বাবধায়ক ও মিটার পরিদর্শকদের সমন্বয়ে এসব দল গঠন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জাহেদ আলম বলেন, রাজস্ব আদায়কে বর্তমানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মনিটরিং টিমগুলো এলাকাভিত্তিক কাজ করে বকেয়া থাকা গ্রাহকদের বিল পরিশোধে উৎসাহিত করছে।

তিনি জানান, আগে ৫০ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের নিয়ে কাজ করা হলেও বর্তমানে ২৫ হাজার টাকার বেশি বকেয়া থাকা গ্রাহকদের তালিকাভুক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ে উৎসাহ বাড়াতে সর্বোচ্চ বকেয়া আদায়কারী তিনজন মিটার পরিদর্শককে ক্রেস্ট এবং প্রতিটি টিমের সদস্যদের সনদ দেওয়া হয়েছে।

গত দুই মাসের এই কার্যক্রমে শুধু বকেয়া আদায় নয়, গ্রাহকদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ পানির সংযোগ এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপ শনাক্তের কাজও করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং লাইসেন্সবিহীন গভীর নলকূপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্রাহকদের আইন মেনে পানির সংযোগ ও গভীর নলকূপের লাইসেন্স গ্রহণ এবং বকেয়া বিল পরিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন, বকেয়া আদায়ের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আয় আরও বাড়বে এবং সংস্থাটির চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে তা ভূমিকা রাখবে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত