আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির ২১ বছরের বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। মঙ্গলবার রাতে বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার হয়ে মাঠে নামেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।
বিদায়ী ম্যাচটিকে ঘিরে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল মনুমেন্তাল। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে মেসি শুধু নিজেই গোল করেননি, সতীর্থ নিকোলাস ওতামেন্দি ও নিকো পাজের গোলেও অবদান রাখেন। দ্বিতীয়ার্ধে ওতামেন্দির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে যাওয়ার পর পাজ ব্যবধান বাড়ান। এরপর পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখেন মেসি।
ম্যাচের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী এই তারকা। বক্তব্য দিতে গিয়ে সম্প্রতি প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা স্মরণ করেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে এত দীর্ঘ সময় খেলতে পারাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় গর্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মেসি।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলায় এসেছে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার মতো বড় শিরোপা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাতীয় দলের হয়ে সাফল্য পাওয়ার পেছনে সতীর্থদের অবদানও বিশেষভাবে স্মরণ করেন তিনি।
বিদায়ের মুহূর্তে মেসি জানান, আর্জেন্টিনার হয়ে আর মাঠে নামতে না পারার বিষয়টি তার জন্য কষ্টের। তবে একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের পাশে থাকার এবং কঠিন সময়ে জাতীয় দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তাও দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের মধ্য দিয়ে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিলেন। তিনি দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলদাতা খেলোয়াড়।
জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হলেও ক্লাব ফুটবলে এখনই থামছেন না মেসি। তবে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিতে তার শেষ রাতটি হয়ে থাকল একটি যুগের আবেগঘন সমাপ্তি—যেখানে হাজারো সমর্থকের কণ্ঠে ছিল একটাই বার্তা, ‘ধন্যবাদ, লিও।’
ইতি/
