রাঙামাটির পর্যটন অবকাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করতে কাপ্তাই হ্রদের ওপর বিদ্যমান ঝুলন্ত সেতুর স্থলে আধুনিক ‘ত্রিমুখী ঝুলন্ত সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার তিনটি পাহাড়ে কেবলকার স্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যটকেরা একইসঙ্গে পাহাড়, হ্রদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের আরও বিস্তৃত সুযোগ পাবেন।
রাঙামাটি শহরের তবলছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। তবে বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হ্রদের পানি বেড়ে গেলে সেতুর নিচের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বছরের একটি বড় সময় পর্যটকদের জন্য সেতুটি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যমান সেতুর পরিবর্তে আরও উঁচু ও আধুনিক কাঠামোর ‘ত্রিমুখী ঝুলন্ত সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ নিয়ে পর্যটন করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সম্ভাব্য নকশা, নির্মাণ পদ্ধতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। তবে চূড়ান্ত নকশা, প্রকল্প ব্যয় ও নির্মাণের সময়সীমা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান।
এদিকে রাঙামাটি সদর, বরকল ও কাপ্তাই উপজেলার তিনটি পাহাড়ে কেবলকার স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার ফুরোমন পাহাড়, বরকল উপজেলার সুবলং পাহাড় এবং কাপ্তাই উপজেলার রাম-সীতা পাহাড়।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ের ওপর থেকে কাপ্তাই হ্রদসহ আশপাশের বিস্তৃত প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে। এতে রাঙামাটির পর্যটন আকর্ষণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও পর্যটনবিষয়ক গবেষক আনোয়ার আল হক বলেন, কয়েক দশক আগে রাঙামাটিকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত হয়নি। নতুন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে জেলার পর্যটন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাহাড়ের স্থিতিশীলতা, হ্রদের স্বাভাবিক পরিবেশ, পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে রাঙামাটির তবলছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদের ওপর প্রায় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হয়। দুই পাহাড়কে সংযুক্ত করা এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ‘সিম্বল অব রাঙামাটি’ হিসেবে পর্যটকদের কাছে পরিচিত। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ঐতিহ্যবাহী এই পর্যটন স্থাপনার জায়গায় আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় অবকাঠামো গড়ে উঠতে পারে।
ইতি/
