, |

চট্টগ্রাম - 🌤️ 33° সে. | 💧 আদ্রতা 59%

শুঁটকিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চার উপকূলীয় অঞ্চলের শুঁটকি মাছ ও চিংড়ির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক বা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে সুন্দরবনের দুবলার চরের লইট্টা শুঁটকিতে সবচেয়ে বেশি কণা পাওয়া গেছে। রাসায়নিক ঝুঁকিসূচকে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে কুয়াকাটার নমুনা।

গবেষণায় দুবলার চর, কুয়াকাটা, কক্সবাজার ও টেকনাফ থেকে সংগ্রহ করা ছয় প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির মোট ২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রতিটি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি গ্রাম শুঁটকিতে কণার পরিমাণ ছিল ০.২৫ থেকে ১.৩০টি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দুবলার চরের লইট্টা শুঁটকিতে প্রতি গ্রামে সর্বোচ্চ ১.৩০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে কক্সবাজারের বাগদা চিংড়ির শুঁটকিতে, প্রতি গ্রামে ১.২৫টি।

অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে প্রতি গ্রামে গড়ে সুন্দরবনের শুঁটকিতে ০.৯১টি, কক্সবাজারে ০.৮২টি, কুয়াকাটায় ০.৫৮টি এবং টেকনাফে ০.৫৭টি কণা পাওয়া গেছে। তবে অঞ্চলগুলোর মধ্যে এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য নয়। তাই এসব ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো একটি এলাকার শুঁটকিকে নিশ্চিতভাবে বেশি দূষিত বলা যাচ্ছে না।

সাত ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত

গবেষকেরা নমুনায় সাত ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে পলিথিনের পরিমাণ ৩০.৪৯ শতাংশ এবং পলিপ্রোপিলিনের পরিমাণ ২৪.৩৯ শতাংশ। এ ছাড়া পলিয়েস্টার, পলিস্টাইরিন ও পলিভিনাইল ক্লোরাইডসহ অন্যান্য প্লাস্টিকও পাওয়া গেছে।

গবেষণায় শনাক্ত কণাগুলোর বড় অংশ ছিল সূক্ষ্ম তন্তুর মতো; কিছু ছিল ভাঙা প্লাস্টিকের টুকরা। অধিকাংশ কণার আকার ১৫১ থেকে ১ হাজার ৫০০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে। নীল ও কালো রঙের কণার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি।

প্লাস্টিকের রাসায়নিক ধরন বিবেচনায় তৈরি ঝুঁকিসূচকে কুয়াকাটার মান ছিল ২ হাজার ৬৪২.৭। কক্সবাজারে এই মান ১ হাজার ৪৬১.১, টেকনাফে ১২০.৫ এবং সুন্দরবনে ৮৬.৭। অর্থাৎ, কণার সংখ্যা বেশি হলেই রাসায়নিক ঝুঁকিসূচক বেশি হবে—এমন নয়।

দূষণের উৎস ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

গবেষকদের মতে, মাছ সমুদ্রে থাকার সময় দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করতে পারে। মাছ ধরার পর শুকানো, পরিবহন ও সংরক্ষণের সময়ও বাতাস, প্লাস্টিকের চাদর, জাল ও দড়ি থেকে এসব কণা শুঁটকিতে মিশতে পারে। তবে কোন পর্যায়ে কতটা দূষণ ঘটেছে, তা এই গবেষণায় নির্দিষ্ট করা যায়নি।

শুঁটকি খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই গবেষণায় মানুষের শরীরে কণা জমার মাত্রা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে গবেষণার ফলাফলকে সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

দূষণ কমাতে পরিষ্কার ও উঁচু মাচায় শুঁটকি শুকানো, পুরোনো প্লাস্টিকের চাদর এড়িয়ে চলা, উৎপাদন ও সংরক্ষণব্যবস্থা উন্নত করা এবং নিয়মিত নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষকেরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আশরাফুল আজম খানের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণাটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Marine Pollution Bulletin-এ অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতি/

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত