
এম.এস.এ সোহেল আরমান,চকরিয়া (কক্সবাজার)প্রতিনিধি
কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় ১১মাস ১৮ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে সোহেল উদ্দিন (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর ) সকাল ১০ টায় পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডে মাষ্টার পাড়া জামে মসজিদের কবরস্থান থেকে কক্সবাজার সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত উজ্জামানের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, চকরিয়া থানার সহকারী উপ- পরিদর্শক (এ এসআই) জয়নাল আবেদীন। নিহত ব্যবসায়ী সোহেল উদ্দিন পৌরসভা ৮ নং ওয়ার্ড সোসাইটি পাড়ার শামসুল আলমের ছেলে।
জানা যায়, গত ঘটনার তারিখ থেকে প্রায় ১১ মাস ১৮ দিন আগে সার্জিক্যালের সত্ত্বাধিকারী সোহেল উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভা চকরিয়া সরকারী হাই স্কুল সংলগ্ন মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে ভবনের ২য় তলায় এক আত্মীয়র বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ভবনের মালিক ও পথচারী সহ সাথে সাথে চকরিয়া জম জম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাফিয়া জান্নাত বাদী হয়ে ৬ জনের নামে
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফোজদারী অভিযোগ দায়ের করেন।
ফোজদারী অভিযোগের বাদী ও নিহতের স্ত্রী সাফিয়া জান্নাত বলেন, গত ২০২২ সালের ২২অক্টোবর রাত ১২টার দিকে আমার কাছে ফোন আসে। আমি জানতে পারলাম আমার স্বামী অসুস্থ হয়ে চকরিয়া জম জম হাসপাতালে ভর্তি করেন আত্মীয় স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। আমি সেখানে গিয়ে দেখি আমার স্বামী অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর আমাকে জানান সোহেল স্ট্রোক করেছেন। পরে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসাকরা বলেন সোহেল মারা গেছেন। সে সময় শোকের কারণে বুঝতে না পেরে আমার স্বামী সোহেলকে দাফন করি। ঘটনার পর আমার স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ যাবতীয় সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেন আমার স্বামীর পরিবার সদস্যরা তাই আমার দুই সন্তানকে নিয়ে আইনের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করি এতে মৃত্যুর বিষয়টি আমার সন্দেহ হয় সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমি গত ২৭ ফেব্রুয়ারী আদালতে গিয়ে ফোজদারী অভিযোগ দায়ের করি। আদালত থেকে আজ কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য বলা হয়।
অভিযোগ কারীদে কাছে জানতে চাইলে মরহুম সোহেল সাথে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক সেই দিন সোহেল আমার বাসায় আসেন দীর্ঘক্ষণ আমাদের সাথে গল্প করেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গেলে ভবনের মালিকসহ, পথচারী সহযোগিতা চকরিয়া জম জম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় আমাদেরকে ষড়যন্ত্র করে হয়রানি করা হচ্ছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহদোয়ের উপস্থিততে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।

