বিতর্কিত পুলিশ অফিসার হারুনের বেপরোয়া আচরণের কারণে হাসিনার সর্বনাশ 

মো. কামাল উদ্দিন:

বাংলাদেশের পুলিশের গৌরবময় ইতিহাস আজ বিতর্কিত অতিউৎসাহী ডিআইজি হারুনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। সরকারকে খুশি করার জন্য হারুন নিয়মভঙ্গ করে যা ইচ্ছা করেছেন এবং সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার বেপরোয়া আচরণের কারণে তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। হারুন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আশ্রয় লাভের সুবাদে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিরোধী দলের হুইপ জয়নাল আবেদিনকে শারীরিকভাবে আঘাত করার পর তাকে শাস্তির পরিবর্তে উৎসাহিত করা হয়, যা তাকে আইন ভঙ্গের লাইসেন্স দেয়।

হারুনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। আদালতের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে হারুন কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের ডিভি অফিসে আটক করে মানসিক চাপ প্রয়োগ করেন। এই কারণে ছাত্র-জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের কারণে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে হয়, যা ইতিহাসের পাতায় একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে থাকবে।

একজন বিতর্কিত পুলিশের কারণে একটি প্রতিষ্ঠিত সরকারের পতন এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও দেশ ত্যাগের ঘটনা দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক। হারুনের কারণে দেশের বর্তমান অবস্থা শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে, তাই এখন প্রশ্ন উঠছে, সেই বিতর্কিত পুলিশ অফিসার হারুন আসলে কে? হারুনের বিরুদ্ধে শিশু অপহরণের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অপহৃত শিশুকে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এই ঘটনা তখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। হারুনের স্ত্রী আমেরিকায় থাকেন এবং হারুন নিজেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। মাঝে মাঝে তিনি আমেরিকা যান এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় অংকের টাকা কামিয়ে বিদেশে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠ অনেকেই বলছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের মারপিট করে আলোচনায় আসা হারুন ভবিষ্যতে মিঠামইন এলাকা থেকে এমপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।

অন্যদিকে, মোহাম্মদপুর জোনের এসি বিপ্লব কুমার সরকারের বিরুদ্ধে চাকরি জীবনের শুরু থেকেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। ২১তম বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া বিপ্লব সরকার ছাত্রলীগের জগন্নাথ হল শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। পুলিশের চাকরি পাওয়ার পর অতীতের কৃতকর্মের কারণে ২০০৩ সালের অক্টোবরে তিনি সারদায় ট্রেনিং করে ডিভি ভিসা নিয়ে আমেরিকায় চলে যান। সাত বছর আমেরিকায় থাকার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে আসেন। এসময় তাকে ফেরারি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতির জন্য তার বিরুদ্ধে জিডি করা হয়। তবে সাত বছর পর দেশে ফিরে তিনি রহস্যজনকভাবে পুনরায় চাকরি ফিরে পান। প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিপ্লবের স্ত্রী ভারতে পড়াশোনা করছেন এবং মাঝে মাঝে ভারতে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটান।

সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ সদরের বাসিন্দা বিপ্লবকে বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর জোনে বদলি করা হয়। সেখানে তিনি জয়নুল আবেদিন ফারুককে লাথি মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।

এই কর্মকাণ্ড দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—পুলিশের পোশাকে তারা আসলে কারা? আওয়ামী লীগ এমপি-মন্ত্রীদের নজর আকর্ষণ করতে গিয়ে হরতালে অতিউৎসাহী সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার হারুন অর রশিদ এবং বিপ্লব কুমার সরকার সবার দৃষ্টি আকর্ষণে সফল হয়েছেন।

হারুনের মতো পুলিশের সংখ্যা কিন্তু বেশি নয়; গুটিকয়েক বিতর্কিত অতিউৎসাহী পুলিশ অফিসারের কারণে পুলিশের গৌরবময় ভূমিকা নিয়ে আজ প্রশ্ন উঠছে—পুলিশ কি আসলে দেশ ও জাতির বন্ধু?

লেখক: সাংবাদিক, গবেষক, টেলিভিশন উপস্থাপক এবং মহাসচিব, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম

[recent_tabs]